রূপপুরে জ্বালানি লোডিং: দেশে পারমাণবিক বিদ্যুতের সূচনা

0
10

পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের (আরএনপিপি) প্রথম ইউনিটে ইউরেনিয়াম জ্বালানি লোডিং কার্যক্রমের মাধ্যমে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে পারমাণবিক যুগে প্রবেশ করল। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এবং রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি সংস্থা রোসাটমের মহাপরিচালক আলেক্সি লিখাচেভ যৌথভাবে বাটন চাপ দিয়ে এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের উদ্বোধন করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের উপদেষ্টা জনাব রেহান আসিফ আসাদ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব আনোয়ার হোসেন, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) প্রতিনিধি ওয়েই শুয়াং, রোসাটমের ডেপুটি ডিরেক্টর আন্দ্রে পেট্রোভ, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যান মইনুল ইসলামসহ রাশিয়া ও বাংলাদেশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত ছিলেন আইএইএ মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রসি।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী বলেন, রূপপুর প্রকল্প শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদন নয়, এটি বাংলাদেশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও আত্মবিশ্বাসের প্রতীক। রোসাটম প্রধান লিখাচেভ জানান, ভবিষ্যতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিং সম্পন্ন করতে প্রায় ৪৫ দিন সময় লাগবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী জুলাই বা আগস্টে জাতীয় গ্রিডে পরীক্ষামূলকভাবে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত করা সম্ভব হবে। এক বছর পর পূর্ণ সক্ষমতায় গেলে প্রতিটি ইউনিট থেকে ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে।

প্রকল্পের ব্যয় প্রায় এক লাখ ১৪ হাজার কোটি টাকা, যার ৯০ শতাংশ অর্থায়ন করছে রাশিয়া। রূপপুরে স্থাপিত তৃতীয় প্রজন্মের উন্নত ভিভিইআর-১২০০ প্রযুক্তি নিরাপদ, দীর্ঘমেয়াদি ও পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু হলে দেশের শিল্পায়ন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও জ্বালানি নিরাপত্তায় নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। এটি বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়ন ও মানবসম্পদ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে