সাতক্ষীরা জেলায় এ বছর আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭০ হাজার ৩৮০ মেট্রিক টন। এর মধ্যে প্রায় একশ’ মেট্রিক টন আম বিদেশে রপ্তানি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, এবার ৪ হাজার ১৪০ হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়েছে। গত বছর চাষ হয়েছিল ৪ হাজার ১৩৭ হেক্টরে এবং উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭০ হাজার মেট্রিক টন। সংগ্রহ হয়েছিল ৬৬ হাজার ২৫০ মেট্রিক টন আম। ফলে এ বছর তিন হেক্টর বেশি জমিতে চাষ হয়েছে এবং ৩৮০ মেট্রিক টন বেশি উৎপাদনের লক্ষ্য ধরা হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের ঘোষিত আম ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ৫ মে গোবিন্দভোগ ও গোপালভোগ আম সংগ্রহ শুরু হয়। ১৫ মে থেকে বাজারজাত হচ্ছে হিমসাগর, ২৭ মে থেকে ল্যাংড়া এবং ৫ জুন থেকে আম্রপালি আম বাজারে আসবে। কুখরালী এলাকার আমচাষী হাফিজুল ইসলাম খোকার বাগান থেকে যুক্তরাজ্য ও ইতালিতে হিমসাগর আম রপ্তানি হচ্ছে। শুক্রবার তার বাগান থেকে চার টন আম বিদেশে পাঠানো হয়েছে। তিনি প্রতি মণ আম তিন হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন।
বাজারে সরবরাহ বেশি থাকায় দাম কিছুটা কমেছে। সুলতানপুর বাজারে আকারভেদে প্রতি মণ হিমসাগর আম দেড় হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মনির হোসেন জানিয়েছেন, এ বছর আম বিক্রি থেকে চারশ’ কোটি টাকার বেশি আয় হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, সাতক্ষীরায় বর্তমানে ৫ হাজার ৩৫০টি আম বাগান রয়েছে এবং ১২ হাজার পাঁচশ’ জন আমচাষী কাজ করছেন। আবহাওয়া, মাটির গুণাগুণ ও ভৌগলিক কারণে দেশের অন্যান্য জেলার তুলনায় সাতক্ষীরার আম আগে পাকে। ভোক্তাদের কাছে বিষমুক্ত ও নিরাপদ আম পৌঁছে দিতে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হচ্ছে।




























