যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে শান্তিচুক্তির সম্ভাবনা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের একটি হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার পর ইরান জর্দান ও বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালায়। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ও নজরদারি রাডার লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস দাবি করেছে, তারা জর্দানের আল-আজরাক ঘাঁটিতে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ঘাঁটি ও মার্কিন কমান্ড সেন্টারসহ চারটি লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করেছে। তবে জর্দানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করা হয়েছে এবং কোনো প্রাণহানি ঘটেনি। বাহরাইনেও মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার সতর্ক সাইরেন বাজে। কুয়েতের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা শত্রুতামূলক আকাশ লক্ষ্যবস্তু প্রতিহত করছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, বিমানবাহিনী ও নৌবাহিনীর যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে হরমুজ প্রণালীর কাছে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ও গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশনে নির্ভুল হামলা চালানো হয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো হামলার জবাব দেওয়া হবে।
এ সংঘর্ষ গত ৮ এপ্রিলের যুদ্ধবিরতির পর সবচেয়ে ভয়াবহ বলে বিবেচিত হচ্ছে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শান্তি আলোচনার আশাবাদ প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র কঠোর প্রতিক্রিয়া দিচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, পাল্টাপাল্টি হামলা শান্তি আলোচনাকে আরও জটিল করে তুলেছে।
হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা বাড়ছে। ইরান এই জলপথে কার্যত অবরোধের মতো পরিস্থিতি তৈরি করেছে। তেলের দামও ওঠানামা করছে—বুধবার দাম বেড়েছে, যদিও আগের দিন সম্ভাব্য চুক্তির আশায় তা কমেছিল। ইরান বিদেশি বাহিনীকে হরমুজ এলাকা ছেড়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে এবং সতর্ক করেছে যে সীমান্তের কাছাকাছি থাকা বাহিনী সবসময় ঝুঁকিতে থাকবে।

























