বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। মঙ্গলবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তিনি ৯৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী সাইপ্রাসের প্রার্থী আন্দ্রেয়াস এস কাকোরিস পেয়েছেন ৯১ ভোট। মোট ১৯০টি দেশ ভোট প্রদান করে।
এই বিজয়কে বাংলাদেশের কূটনৈতিক ইতিহাসে এক গৌরবোজ্জ্বল মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতি আস্থা, গ্রহণযোগ্যতা এবং ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক প্রভাবের প্রতিফলন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, এই অর্জন বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের অবদান ও বিশ্বাসযোগ্যতার প্রতিফলন।
বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল সময়ের সীমাবদ্ধতা। মাত্র তিন মাসের মধ্যে দেশটি এমন এক বৈশ্বিক প্রচারণা চালিয়েছে, যা সাধারণত কয়েক বছর ধরে প্রস্তুতি নিয়ে সম্পন্ন হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্ব, পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের অভিজ্ঞতা এবং কূটনৈতিক মিশনের সমন্বিত প্রচেষ্টা এ বিজয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বাংলাদেশের প্রচারণায় গুরুত্ব পেয়েছে কার্যকর বহুপাক্ষিকতা, জাতিসংঘ সংস্কার, উন্নয়নশীল দেশগুলোর স্বার্থ সংরক্ষণ, জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ রাষ্ট্রের সহযোগিতা বৃদ্ধি, টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট বাস্তবায়ন এবং বৈশ্বিক দক্ষিণের কণ্ঠস্বরকে শক্তিশালী করা। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ছিল গত ১৩ মে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত ইন্টারঅ্যাকটিভ ডায়ালগ, যেখানে ড. খলিলুর রহমান তার ভিশন স্টেটমেন্ট উপস্থাপন করেন। ওই সংলাপের পর প্রায় ৩০টি দেশ প্রকাশ্যে বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন জানায়।
আগামী ৮ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে অধিবেশন শুরু হবে এবং ২২ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের ভাষণের মধ্য দিয়ে উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্ক শুরু হবে। এ অধিবেশনে সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন ড. খলিলুর রহমান। এর মাধ্যমে দ্বিতীয়বারের মতো কোনো বাংলাদেশি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে অধিষ্ঠিত হচ্ছেন। এর আগে ১৯৮৬ সালে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী একই দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
এই ঐতিহাসিক বিজয় বাংলাদেশের বহুপাক্ষিক কূটনীতিতে সক্রিয় ও দায়িত্বশীল ভূমিকার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

























