দেশে বহুদলীয় রাজনীতির অগ্রদূত জিয়াউর রহমান : সাইফুল হক

0
37

বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেছেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশে বহুদলীয় রাজনীতি চালুর ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। তাঁর অন্যতম লক্ষ্য ছিল রাষ্ট্রের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করা এবং জাতীয়তাবাদী দর্শনকে বাস্তবে রূপ দেওয়া।

জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে একটি গণমাধ্যমকে দেয়া সাক্ষাৎকারে সাইফুল হক বলেন, রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর জিয়া বাঙালি জাতিগোষ্ঠীর পাশাপাশি পাহাড় ও সমতলের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীকেও জাতীয়তাবাদের ধারণায় অন্তর্ভুক্ত করেন। ফলে ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ একটি রাজনৈতিক চেহারা পায়। বাকশাল ব্যবস্থার অবসানের পর তিনি বহুদলীয় রাজনীতি চালু করেন, যা দেশের গণতান্ত্রিক ধারার পুনঃপ্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তিনি উল্লেখ করেন, জিয়াউর রহমানের শাসনামলে ঘোষিত ১৯ দফা কর্মসূচি ছিল রাষ্ট্র পুনর্গঠন ও সামাজিক উন্নয়নের ভিত্তি। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাসস্থান ও অবকাঠামো উন্নয়নে এ কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। পরবর্তীকালে বিএনপি দীর্ঘ সময় ধরে ওই কর্মসূচির আলোকে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করে। ১৯৯১ সালে বেগম খালেদা জিয়ার সরকার গঠনের পর ১৯ দফা নতুন মাত্রা পায় এবং ২০২২ সালে ঘোষিত বিএনপির ২৭ দফার মধ্যেও এর ধারাবাহিকতা দেখা যায়। যুগপৎ আন্দোলনের অংশ হিসেবে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি ও গণতন্ত্র মঞ্চের সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে তা ৩১ দফায় রূপ নেয়।

সাইফুল হক বলেন, জিয়াউর রহমান হাতে-কলমে কাজের সংস্কৃতি গড়ে তোলেন। রাষ্ট্রপ্রধান হয়েও তিনি খাল খনন কর্মসূচি নিয়ে দেশব্যাপী ঘুরেছেন এবং কৃষি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। যশোরের উলশী-যদুনাথ প্রকল্প কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে বিশেষ অবদান রাখে। এছাড়া তাঁর উদ্যোগে সার্ক প্রতিষ্ঠিত হয়, যা আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে দূরদর্শী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হয়।

তিনি আরও বলেন, জিয়াউর রহমান শিল্প উদ্যোগ বৃদ্ধি, বিদেশে শ্রমিক পাঠানো এবং তৈরি পোশাক শিল্পের সম্ভাবনা উন্মোচনে কাজ শুরু করেছিলেন। মুক্তিযুদ্ধে তাঁর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গৌরবান্বিত। স্বাধীনতার ঘোষণা প্রদান ও জেড ফোর্সের কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন তাঁকে ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে স্থান দিয়েছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে