ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) গত দুইদিনে মোট ২৩ হাজার ৭৯১ টন কোরবানির বর্জ্য মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলে ডাম্পিং করেছে। ডিএসসিসি’র জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. রাসেল রহমান এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি জানান, পবিত্র ঈদুল আজহার দিন রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত ১৪ হাজার ৮১৪ টন কোরবানির বর্জ্য মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলে চূড়ান্তভাবে ডাম্পিং করা হয়। এর পরের দিন অর্থাৎ ২৯ মে রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত আরও ৮ হাজার ৯৭৭ টন বর্জ্য সেখানে ডাম্পিং করা হয়। ফলে দুই দিনে মোট ২৩ হাজার ৭৯১ টন বর্জ্য অপসারণ করা সম্ভব হয়েছে।
শুক্রবার সকালে ডিএসসিসির প্রশাসক মো. আবদুস সালাম শাহজাহানপুর রেলওয়ে কলোনির অস্থায়ী পশুর হাট পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি চলমান বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন এবং সংশ্লিষ্টদের দ্রুত কাজ শেষ করার নির্দেশনা দেন।
পরিদর্শনকালে প্রশাসক বলেন, ঈদুল আজহার প্রথম দিনের মতো দ্বিতীয় দিনেও কোরবানির পশুর বর্জ্য ও অস্থায়ী হাটের বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম জোরদারভাবে পরিচালিত হচ্ছে। নগরবাসীর স্বস্তি নিশ্চিত করতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সব বর্জ্য অপসারণে ডিএসসিসি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি আরও জানান, ঈদের দ্বিতীয় দিনে বর্জ্য অপসারণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১১ হাজার ৭৭৬ টন। পরিচ্ছন্নতাকর্মী, পরিবহনকর্মী ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের সমন্বিত প্রচেষ্টায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই এ লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রতিবছর ঈদুল আজহায় রাজধানীতে বিপুল পরিমাণ কোরবানির বর্জ্য সৃষ্টি হয়। এ বর্জ্য দ্রুত অপসারণে সিটি কর্পোরেশন বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করে থাকে। এ বছরও ডিএসসিসি বিশেষ উদ্যোগ নিয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বর্জ্য অপসারণে সক্ষম হয়েছে।
ডিএসসিসি জানিয়েছে, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় তাদের কর্মীরা দিন-রাত কাজ করেছেন। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বর্জ্য অপসারণের ফলে রাজধানীর দক্ষিণাঞ্চলে দুর্গন্ধ ও পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে। মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলকে কেন্দ্র করে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
প্রতিবছর কোরবানির বর্জ্য অপসারণ একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দেয়। তবে এ বছর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বর্জ্য অপসারণে ডিএসসিসি সফল হয়েছে বলে কর্মকর্তারা দাবি করেছেন। তারা মনে করেন, নাগরিকদের সহযোগিতা এবং সিটি কর্পোরেশনের কর্মীদের নিরলস প্রচেষ্টার কারণে এ সাফল্য এসেছে।
কর্মকর্তারা আরও জানান, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তি ও পরিকল্পনা ব্যবহার করা হয়েছে। পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ে পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগ এবং সমন্বিত কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে এ বিশাল পরিমাণ বর্জ্য দ্রুত অপসারণ সম্ভব হয়েছে।
ডিএসসিসি’র এ উদ্যোগকে নাগরিকরা ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছেন। তারা মনে করেন, সময়মতো বর্জ্য অপসারণের ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকি কমেছে এবং পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব হয়েছে।




























