ক্রীড়াবিদদের আর্থিক সচ্ছলতা নিশ্চিতকরণ এবং খেলাধুলাকে মর্যাদাপূর্ণ পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সরকার ‘ক্রীড়া কার্ড’ কর্মসূচি সম্প্রসারণ করেছে। দ্বিতীয় ধাপে নতুন করে আরও ১৭১ জন ক্রীড়াবিদকে এই কার্ড ও মাসিক ভাতার আওতায় আনা হয়েছে। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত মোট ৩০০ জন খেলোয়াড় এই বিশেষ সুবিধা পাচ্ছেন।
রোববার (১৯ এপ্রিল) রাজধানীর পল্টনে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক নতুন অন্তর্ভুক্ত খেলোয়াড়দের হাতে কার্ড তুলে দেন। তিনি জানান, তালিকাভুক্ত প্রত্যেক ক্রীড়াবিদ মাসিক ১ লাখ টাকা ভাতা পাবেন। তবে পারফরম্যান্স মূল্যায়নের ভিত্তিতে প্রতি চার মাস পর তালিকা হালনাগাদ করা হবে।
কার্ডধারী খেলোয়াড়রা বিশেষ বীমা সুবিধার আওতায় থাকবেন, ফলে মাঠে বা ব্যক্তিগত জীবনে যেকোনো ইনজুরিতে তারা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চিকিৎসা সেবা পাবেন।
এই ধাপে জাতীয় পুরুষ ও নারী ফুটবল দলের ৩৬ জন সদস্য ছাড়াও প্রথমবারের মতো জাতীয় নারী হকি দলের খেলোয়াড়রা ভাতার আওতায় এসেছেন। এছাড়া আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য অর্জনকারী তরুণ ব্যাডমিন্টন তারকা সিফাত উল্লাহ ও নাজমুল ইসলামও কার্ড পেয়েছেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “ক্রীড়াকে স্থায়ী পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য। খেলোয়াড়দের মান ধরে রাখতে নিয়মিত পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করা হবে।” তিনি আরও জানান, আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলাকে পাঠ্যক্রমের আবশ্যিক বিষয় করা হবে এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে।
সরকারের লক্ষ্য অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে ৫০০ জন ক্রীড়াবিদকে এই ভাতার আওতায় আনা হবে। দ্বিতীয় ধাপে ফুটবল, হকি, ভলিবল, দাবা, আর্চারি, ভারোত্তোলন, হ্যান্ডবল, জিমন্যাস্টিকস, সাঁতার, টেবিল টেনিস, শুটিং, সাইক্লিং, উশু, জুডো, কিকবক্সিং, টেনিস, বডি বিল্ডিং ও ট্রায়াথলনসহ বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের মোট ১৭১ জন খেলোয়াড়কে কার্ড প্রদান করা হয়েছে।

































