দেশজুড়ে আলোচিত পল্লবীর শিশু রামিসা আক্তার হত্যা ও ধর্ষণ মামলায় আসামি সোহেল রানা (৩৩) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার (২৮)-কে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রোববার (৭ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এই রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, আমি এই রায়ে সন্তুষ্ট। তবে রায় যখন বাস্তবে কার্যকর হবে, তখন আমি শতভাগ সন্তুষ্ট হব।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীসহ এ মামলা পরিচালনায় সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আমি চাই প্রত্যেকটি রামিসা হত্যার বিচার হোক। এই ধরনের নৃশংসতা যেন আর না হয়। যত দ্রুত সম্ভব রায় কার্যকর চাই।’
আইনমন্ত্রী মো.আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আইনের প্রতিটি ধাপ অনুসরণ করে মাত্র ছয় কার্যদিবসের মধ্যে এ রকম একটি বেদনাদায়ক ঘটনার বিচার সম্পন্ন করতে পেরেছি। ঘোষিত শাস্তিতে আমরা আপাতত সন্তুষ্ট এবং আশা করি উচ্চ আদালতেও এ রায় বহাল থাকবে।’
রায়ের পর নাটোরের সিংড়ার মহেশচন্দ্রপুরে আসামি সোহেল ও স্বপ্নার গ্রামের মানুষ স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। স্থানীয়রা বলেন, নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিচার পেয়ে তারা সন্তুষ্ট।
সোহেলের পরিবারও রায় মেনে নিয়েছে। তার বোন জলি বেগম বলেন, “আমার ভাইয়ের ফাঁসি হবে এটা আমরা ধারণা করেছিলাম। ফাঁসির রায় আমরা মেনে নিয়েছি।” সোহেলের বাবা-মা জানিয়েছেন, তারা এতটাই গরীব যে আপিল করার মতো সামর্থ্য নেই। সরকার আইনজীবী দিলে আপিল করবেন।
অন্যদিকে স্বপ্নার বাবা জিয়াদুল বলেন, “আমি মেয়েকে আগেই ত্যাজ্য করেছিলাম। মেয়ের এই রায়ে আমি খুশি। বিচার বাস্তবায়ন হোক।” প্রতিবেশীরাও মন্তব্য করেছেন, সোহেলের মতো খারাপ ছেলের সঙ্গে বিয়ে হওয়ায় স্বপ্নার সর্বনাশ হয়েছে। তারা দুজনের শাস্তি কার্যকর দেখতে চান।
উল্লেখ্য, ১৯ মে পল্লবীতে আট বছরের শিশুকে ধর্ষণ ও গলা কেটে হত্যার মামলায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।




























