প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটকে উচ্চাকাঙ্ক্ষী, জনমুখী এবং রাজনৈতিক অঙ্গীকার বাস্তবায়নের প্রতিফলন হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ও অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেছেন, বাজেটটি সার্বিকভাবে জনমুখী এবং মানুষের প্রত্যাশা পূরণের চেষ্টা করা হয়েছে। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বাস্তবায়ন। ঘোষিত কর্মসূচি ও প্রতিশ্রুতি বাস্তবে রূপ না পেলে মানুষের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি হতে পারে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপন করেছেন, যা দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় জাতীয় বাজেট। এটি বিএনপি সরকারের ১৭তম এবং তার প্রথম বাজেট।
ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বাজেটকে বড় ও উচ্চাভিলাষী আখ্যা দিয়ে গণমাধ্যমকে বলেন, নির্বাচনী অঙ্গীকার ও সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনার প্রতিফলন এতে রয়েছে। বেশ কয়েকটি অগ্রাধিকার খাত নির্ধারণ করা হয়েছে, যা ইতিবাচক উদ্যোগ হলেও বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত সম্পদ সংগ্রহ, সঠিক বরাদ্দ, কার্যকর তদারকি এবং সময়মতো প্রকল্প বাস্তবায়ন।
তিনি সতর্ক করে বলেন, দেশে প্রায়ই প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব দেখা যায়। অনেক উদ্যোগ সময়মতো বাস্তবায়িত না হওয়ায় সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণ হয় না। তাই দ্রুত ও কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
রাজস্ব আহরণ, ব্যাংকিং খাত থেকে বিপুল ঋণ গ্রহণ এবং প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়ন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি। শুধু অর্থ বরাদ্দ করলেই হবে না, প্রকল্পগুলোতে ‘ভ্যালু ফর মানি’ নিশ্চিত করতে হবে।
দুর্নীতি, দক্ষ জনবলের ঘাটতি, প্রাতিষ্ঠানিক সীমাবদ্ধতা এবং প্রকল্প ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কথাও উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব কারণে সময়মতো ও গুণগত মান বজায় রেখে প্রকল্প বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়ে। বাজেটের প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে কোয়ালিটি, সময়ানুবর্তিতা এবং সুশাসন নিশ্চিত করে বাস্তবায়নের ওপর।




























