জনগণের আস্থা অর্জন এবং কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (১০ মে) রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ অডিটোরিয়ামে পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে আয়োজিত ‘কল্যাণ প্যারেডে’ তিনি এ আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “পুলিশ প্রশাসন কোনো দলের নয়, বিধিবদ্ধ আইন অনুযায়ী পরিচালিত হবে। জনগণের কাছে বিশ্বাস ও নিরাপত্তার প্রতীক হয়ে উঠতে পারলেই পুলিশের সাফল্য নিশ্চিত হবে, আর সেটিই সরকারের সাফল্য।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, থানায় আসা মানুষ যেন পুলিশের আচরণে রাষ্ট্রের মালিকানা অনুভব করতে পারেন, সেটি নিশ্চিত করা পুলিশের দায়িত্ব।
তিনি উল্লেখ করেন, জনগণের সহযোগিতা ছাড়া আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা সম্ভব নয়। তাই কমিউনিটি পুলিশিং ও ওপেন হাউস ডে’র মতো জনমুখী উদ্যোগের মাধ্যমে জনগণকে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। মাদক, সন্ত্রাস, দুর্নীতি, নারী ও শিশু নির্যাতন, কিশোর গ্যাং এবং আর্থিক জালিয়াতি মোকাবিলায় পুলিশের কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের প্রেক্ষাপটে সাইবার পুলিশ প্রতিষ্ঠা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), বিগ ডাটা বিশ্লেষণসহ আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো জরুরি।” তিনি জানান, সাইবার ক্রাইম নিয়ন্ত্রণ, আর্থিক জালিয়াতি প্রতিরোধ, সন্ত্রাসবাদ ও আন্তঃদেশীয় অপরাধ মোকাবিলায় সরকার উন্নত প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে কাজ করছে।
মানবাধিকার সমুন্নত রেখে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “গুম-অপহরণ কিংবা বিচারবহির্ভূত কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রতিটি নাগরিকের অধিকার রক্ষা করা পুলিশের নৈতিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব।” তিনি আরও জানান, বদলি, পদোন্নতি ও নিয়োগে মেধা, দক্ষতা ও সততাকে প্রাধান্য দেওয়া হবে।
পুলিশ বাহিনীকে আধুনিক ও দক্ষ করে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, প্রশিক্ষণ, আবাসন সংকট সমাধান, চিকিৎসা সুবিধা, রেশন ও ঝুঁকি ভাতাসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর বিষয়গুলো সরকারের বিবেচনায় রয়েছে।
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পুলিশের মহাপরিদর্শক আলী হোসেন ফকিরসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




























