কৌশলগত অংশীদারিত্বের নতুন দিগন্তে বাংলাদেশ-তুরস্ক

0
24

বাংলাদেশ ও তুরস্ক দীর্ঘদিনের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও উচ্চতায় নিয়ে যেতে কৌশলগত সহযোগিতা জোরদার, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির সম্ভাবনা যাচাইয়ে সম্মত হয়েছে।

শুক্রবার (৫ জুন) রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ও সফররত তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান এ বিষয়ে আলোচনা করেন। বৈঠক শেষে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে উভয় পক্ষই সম্পর্ককে কৌশলগত স্তরে উন্নীত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

ড. খলিলুর রহমান বলেন, বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্রনীতি ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ দর্শনের দ্বারা পরিচালিত, যা স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, জাতীয় স্বার্থ ও জনগণের কল্যাণে দৃঢ় অঙ্গীকারের প্রতিফলন। তিনি জানান, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) বা অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (PTA) স্বাক্ষরের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বাংলাদেশকে “গ্লোবাল সাউথের শক্তিশালী কণ্ঠস্বর” হিসেবে অভিহিত করে প্রতিরক্ষা শিল্প, প্রযুক্তি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগে সহযোগিতার সম্ভাবনা তুলে ধরেন। তিনি রোহিঙ্গা সংকটে বাংলাদেশের মানবিক ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং তাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তনে তুরস্কের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেন।

ফিদান আরও বলেন, আঞ্চলিক সংঘাত ও উত্তেজনা নিরসনে কূটনীতি ও সংলাপের গুরুত্ব অপরিসীম। গাজা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার মাধ্যমে আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এই সফরকে উভয় পক্ষই দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখছে। বৈঠকের পর হাকান ফিদান কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করেন, যা মানবিক সহযোগিতায় তুরস্কের অঙ্গীকারকে প্রতিফলিত করে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে