ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি আলোচনায় আশাবাদী ওয়াশিংটন, মধ্যস্থতায় পাকিস্তান

0
5

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ অবসানে চুক্তির অগ্রগতি নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির তেহরানে আলোচনায় যোগ দিতে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, আলোচনার বর্তমান অবস্থা চুক্তি ও নতুন হামলার ‘সীমারেখায়’ দাঁড়িয়ে আছে। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, সমঝোতা খুব দ্রুত হতে পারে অথবা কয়েক দিনের মধ্যে নতুন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

গত ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার মাধ্যমে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সরাসরি সংঘাত বন্ধ হয়। তবে এখনো স্থায়ী শান্তি চুক্তি হয়নি। ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। বিনিয়োগকারী থেকে কৃষক— সবাই চাপের মুখে রয়েছেন।

ইরানের সংবাদ সংস্থা আইএসএনএ জানিয়েছে, মুনিরের সফরের উদ্দেশ্য হলো ইরান সরকারের সঙ্গে আলোচনা ও পরামর্শ চালিয়ে যাওয়া। এর আগে গত এপ্রিলে পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তাদের মধ্যে সরাসরি বৈঠক হয়েছিল, যেখানে মুনির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তবে ওয়াশিংটনের ‘অতিরিক্ত দাবি’ তুলে ধরার অভিযোগে সেই আলোচনা ব্যর্থ হয়।

ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাকের গালিবফ অভিযোগ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে যুদ্ধ শুরু করতে চাইছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরানের ওপর হামলা হলে কঠোর জবাব দেওয়া হবে। অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই জানিয়েছেন, ওয়াশিংটনের পাঠানো প্রস্তাবগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে বিদেশে জব্দ থাকা ইরানের সম্পদ মুক্ত করা এবং মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের দাবি পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।

জ্বালানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় দেশে রাজনৈতিক চাপের মুখে রয়েছেন ট্রাম্প। হরমুজ প্রণালী এখনো পুরোপুরি খুলে দেওয়া হয়নি, অথচ স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই নৌপথ দিয়ে পরিবহন হয়। ফলে হরমুজের ভবিষ্যৎ এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে