ব্যবসা সহজীকরণ ও শিল্প আধুনিকায়নে সরকারের উদ্যোগ জোরদার

0
12

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, দেশকে প্রতিযোগিতামূলক অর্থনীতিতে রূপান্তর করতে ব্যবসা পরিচালনার জটিলতা কমানো, লজিস্টিক ব্যয় হ্রাস, বন্দর ব্যবস্থাপনার দক্ষতা বৃদ্ধি এবং রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প প্রতিষ্ঠান আধুনিকায়নে সরকার কাজ করছে। তিনি বলেন, পুরোনো সমস্যায় আটকে থাকলে সামনে এগোনো সম্ভব নয়, এখন সময় বাস্তবভিত্তিক সংস্কার ও প্রতিশ্রুতির দ্রুত বাস্তবায়ন।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ঢাকা ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্যাকেজিং এক্সপো ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশে একটি ব্যবসা শুরু করতে উদ্যোক্তাদের প্রায় ২৫ থেকে ২৬ ধরনের অনুমোদন ও লাইসেন্স নিতে হয়, যা ব্যবসা পরিবেশকে জটিল করে তুলছে। এ অবস্থায় সরকার ব্যবসা শুরুর প্রক্রিয়া সহজীকরণে কাজ করছে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নিবন্ধন সম্পন্ন করলেই উদ্যোক্তাদের প্রাথমিকভাবে একটি ‘প্রভিশনাল ক্লিয়ারেন্স’ দেওয়া হবে, যাতে তারা দ্রুত কার্যক্রম শুরু করতে পারেন।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের লজিস্টিক ব্যয় জিডিপির প্রায় ১৬ শতাংশ, যেখানে বৈশ্বিক গড় প্রায় ১০ শতাংশ। বন্দর ব্যবস্থাপনায় দক্ষতার ঘাটতির কারণে পণ্য পরিবহন ব্যয় বাড়ছে এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় দেশ পিছিয়ে পড়ছে। এ পরিস্থিতি পরিবর্তনে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিদেশি অপারেটরদের সম্পৃক্ত করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে একটি ড্যানিশ কোম্পানি কন্টেইনার টার্মিনাল পরিচালনায় কাজ শুরু করেছে এবং ভবিষ্যতে আরও আন্তর্জাতিক মানের প্রতিষ্ঠানকে বন্দরের কার্যক্রমে যুক্ত করা হবে।

রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প প্রতিষ্ঠান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বহু বড় শিল্পকারখানা বছরের পর বছর অলস বা লোকসানি অবস্থায় পড়ে আছে, যা সরকারের ওপর বিপুল ভর্তুকির চাপ সৃষ্টি করছে। শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রায় ৪০টি এবং বস্ত্র ও পাট খাতের অধীনে আরও প্রায় ৫০টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের বিপুল ভূমি ও সম্পদকে উৎপাদন ও কর্মসংস্থানের আওতায় আনতে সরকার ধাপে ধাপে বেসরকারি বিনিয়োগের জন্য উন্মুক্ত করছে। আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে এসব অলস শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের কেন্দ্রে পরিণত করাই সরকারের লক্ষ্য।

উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি চিনিকল গড়ে এক হাজার বিঘা বা তার বেশি জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত। এসব স্থানে আধুনিক শিল্প পার্ক বা বহুমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুললে বিপুল বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান এবং সরকারের রাজস্ব আয় সৃষ্টি সম্ভব হবে।

প্যাকেজিং শিল্পের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক প্যাকেজিং শিল্পের বাজার অত্যন্ত বড় এবং বাংলাদেশকে এই খাতে বড় লক্ষ্য নিয়ে এগোতে হবে। তিনি উদ্যোক্তাদের উদ্দেশে বলেন, ছোট করে চিন্তা করলে বড় জায়গায় পৌঁছানো যায় না। সরকার নীতিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা দেবে, তবে শিল্পের প্রবৃদ্ধি ঘটাতে হবে উদ্যোক্তাদেরই।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফ। এছাড়া প্যাকেজিং শিল্প সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী নেতা, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং দেশি-বিদেশি অংশীজনরা উপস্থিত ছিলেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে