কিশোরগঞ্জ ও ময়মনসিংহে টানা বৃষ্টিতে ৭ হাজার হেক্টর জমির ধান

0
3

টানা চার দিনের ভারী বর্ষণে কিশোরগঞ্জ জেলায় প্রায় সাড়ে ৬ হাজার হেক্টর বোরোধানের জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। একই সময়ে ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলায়ও প্রায় ২৭০ হেক্টর জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। টানা বৃষ্টির কারণে হাওরাঞ্চলের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে কৃষকরা ধান কাটতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে ইটনা উপজেলায়, যেখানে প্রায় ২ হাজার ৬০০ হেক্টর জমির ধান পানিতে ডুবে গেছে।

নিকলী আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ৬১.১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যদিও এর আগের দিন ছিল ১৬০ মিলিমিটার।

পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, জেলার নদীগুলোর পানি এখনো বিপৎসীমার নিচে থাকলেও উজানের চাপ অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে।

কিশোরগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সাজ্জাদ হোসেন জানান, করিমগঞ্জের মগড়া নদী, ইটনার ধনু-বৌলাই নদী, অষ্টগ্রামের কালনী নদী ও ভৈরবের মেঘনা নদীর পানির প্রবাহে ওঠানামা দেখা যাচ্ছে।

এদিকে ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলায় টানা বৃষ্টিতে প্রায় ২৭০ হেক্টর জমির ধান তলিয়ে গেছে। স্থানীয় কৃষকরা জানান, কয়েকটি ইউনিয়নে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে এবং চরাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ধসে গিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

নান্দাইল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাঈমা সুলতানা জানান, উপজেলায় মোট ২২ হাজার ২৯৫ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত ২৭০ হেক্টর জমিতে প্রায় এক হাজার ৬২০ মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের সম্ভাবনা ছিল।

অতিবৃষ্টির কারণে কিশোরগঞ্জ ও নান্দাইলের কৃষকরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। হাওরাঞ্চলের ধান কাটার মৌসুমে টানা বর্ষণ অব্যাহত থাকলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে