যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নিরসনে আগামী দুই দিনের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিউইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বড় কোনো অগ্রগতি হতে পারে এবং আলোচনার কেন্দ্র হিসেবে পাকিস্তানকে বেছে নেওয়ার ব্যাপারে তারা আগ্রহী।
এই ঘোষণা এসেছে এমন সময়ে, যখন এর আগে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠক কোনো কার্যকর সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়েছিল। ওই বৈঠকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফসহ উভয় দেশের শীর্ষ প্রতিনিধিরা অংশ নেন। চুক্তি না হওয়ায় দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ে। এর মধ্যেই ট্রাম্প নতুন আলোচনার সম্ভাবনার কথা জানালেন।
তবে ইরানের পক্ষ থেকে আলোচনায় বসার বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি। ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, তেহরান ও পাকিস্তানের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে বার্তা বিনিময় হলেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে আলোচনায় বসার ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য তাদের কাছে নেই।
উল্লেখ্য, ইসলামাবাদে গত রবিবারের বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার পর উভয় পক্ষ একে অপরকে দোষারোপ করে। এরপর ট্রাম্প হরমুজ প্রণালীতে নৌ-অবরোধের ঘোষণা দেন এবং ইরানও পাল্টা যুদ্ধের হুঁশিয়ারি দেয়। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে ট্রাম্পের নতুন আলোচনার প্রস্তাব মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আলোচনার নতুন উদ্যোগ সফল হলে তা শুধু যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কেই নয়, বরং পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে। তবে ইরানের আনুষ্ঠানিক সম্মতি ছাড়া আলোচনার ভবিষ্যৎ এখনো অনিশ্চিত।

































