৩৪ হাজার কোটি টাকার পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প অনুমোদন

0
17

দেশের প্রধান নদী ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার, লবণাক্ততা হ্রাস, সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় সরকার ৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘পদ্মা ব্যারাজ (প্রথম পর্যায়)’ প্রকল্প গ্রহণ করেছে।

বুধবার (১৩ মে) সচিবালয়ে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)-এর সভায় প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হয়। একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সভায় সভাপতিত্ব করেন।

পরিকল্পনা কমিশনের সুপারিশে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। জুলাই ২০২৬ থেকে জুন ২০৩৩ মেয়াদে শতভাগ সরকারি অর্থায়নে প্রকল্পটি সম্পন্ন হবে।

পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানী সাংবাদিকদের জানান, প্রকল্পটি দেশের এক-তৃতীয়াংশ এলাকা এবং প্রায় ৭ কোটি মানুষকে উপকৃত করবে। খুলনা, ঢাকা, রাজশাহী ও বরিশাল বিভাগের ১৯টি জেলা এর আওতায় আসবে।

প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো হিসনা-মাথাভাঙ্গা, গড়াই-মধুমতি, চন্দনা-বারাশিয়া, বড়াল ও ইছামতীসহ প্রধান নদী ব্যবস্থার প্রবাহ ও নাব্যতা পুনরুদ্ধার। একই সঙ্গে সাতক্ষীরা, খুলনা ও বাগেরহাট অঞ্চলে লবণাক্ততা কমানো, সুন্দরবনের জন্য মিঠাপানির সরবরাহ নিশ্চিত করা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, জলাবদ্ধতা নিরসন, ভূ-গর্ভস্থ জল পুনঃসঞ্চয়ন এবং আর্সেনিক দূষণ কমানো।

প্রকল্পের আওতায় ২ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ মূল পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণ করা হবে। এতে থাকবে ৭৮টি স্পিলওয়ে, ১৮টি আন্ডারস্লুইস, দুটি ফিশ পাস, নৌ-লক, গাইড বাঁধ ও অ্যাপ্রোচ বাঁধ। পাশাপাশি গড়াই, চন্দনা ও হিসনা নদীর অফটেক স্ট্রাকচার নির্মাণ, ১৩৫ কিলোমিটার ড্রেজিং, ২৪৬ কিলোমিটার ড্রেনেজ চ্যানেল পুনঃখনন এবং ১৮০ কিলোমিটার অ্যাফ্লাক্স বাঁধ নির্মাণ করা হবে।

এ প্রকল্পে ১১৩ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতার দুটি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে। বাস্তবায়িত হলে জাতীয় জিডিপিতে শূন্য দশমিক ৪৫ শতাংশ অবদান রাখবে এবং বছরে প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকার প্রত্যক্ষ আর্থিক সুবিধা পাওয়া যাবে।

প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ২৮ লাখ ৮০ হাজার হেক্টর কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা নিশ্চিত হবে এবং পদ্মা নদীতে প্রায় ২ হাজার ৯০০ মিলিয়ন ঘনমিটার পানি সংরক্ষণ সম্ভব হবে।

পরিকল্পনা কমিশন জানিয়েছে, প্রকল্পটি সরকারের নির্বাচন ইশতেহার-২০২৬-এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। বিশেষ করে নদীভাঙন প্রতিরোধ, জলসম্পদ সংরক্ষণ, কৃষিজমিতে লবণাক্ততা কমানো, বন্যা সুরক্ষা এবং সেচ ব্যবস্থার দক্ষতা বৃদ্ধির অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে এটি বাস্তবায়িত হচ্ছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে