ইরান-যুক্তরাষ্ট্র দ্বন্দ্বে সমাধানের কোনো ইঙ্গিত নেই

0
8

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত নিরসনে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনার কোনো অগ্রগতি হয়নি। উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি অবস্থান কূটনৈতিক সমাধানের পথ কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

সোমবার তেহরান থেকে এএফপি জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনার প্রস্তাবের জবাবে ইরান তাদের জব্দকৃত সম্পদ ফেরত এবং মার্কিন নৌ-অবরোধ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। এর আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের প্রস্তাবকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ বলে প্রতিক্রিয়া জানান।

এই উত্তেজনা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। অপরিশোধিত তেলের দাম এক পর্যায়ে চার শতাংশের বেশি বেড়ে যায়। সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর প্রধান নির্বাহী আমিন নাসের সতর্ক করে বলেন, বর্তমান সংকট বিশ্ব ইতিহাসের অন্যতম বড় জ্বালানি সংকট, যার প্রভাব ২০২৭ সাল পর্যন্ত থাকতে পারে।

জাতিসংঘের ইউনাইটেড নেশনস অফিস ফর প্রজেক্ট সার্ভিসেসের নির্বাহী পরিচালক জর্জ মোরেইরা দা সিলভা সতর্ক করেছেন, কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ব্যবস্থা না নিলে প্রায় ৪৫ মিলিয়ন মানুষ ক্ষুধা ও দুর্ভিক্ষের ঝুঁকিতে পড়তে পারে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল ও এলএনজি পরিবাহিত হয়, ফলে কৃষি উৎপাদন ও খাদ্য নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়তে পারে।

ইরান জানিয়েছে, তারা আঞ্চলিক যুদ্ধ বন্ধের দাবি তুলেছে, যার মধ্যে লেবাননে হিজবুল্লাহকে লক্ষ্য করে ইসরাইলি হামলা বন্ধের ইঙ্গিতও রয়েছে। তবে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা ধ্বংস না হওয়া পর্যন্ত সংঘাত শেষ হবে না।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের তথ্যমতে, ইরান আলোচনার অংশ হিসেবে কিছু উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম পাতলা করার প্রস্তাব দিয়েছে, তবে শর্ত দিয়েছে যে আলোচনা ব্যর্থ হলে সেই ইউরেনিয়াম ফেরত দিতে হবে। এদিকে ইরান হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও টোল আদায়ের ব্যবস্থা চালু করেছে, যা যুক্তরাষ্ট্র ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে উল্লেখ করেছে।

ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের মুখপাত্র হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এখন থেকে ইরান আর সংযম দেখাবে না এবং কোনো হামলার জবাব কঠোরভাবে দেওয়া হবে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে