গাজীপুরে পাঁচজনকে গলা কেটে হত্যা, অভিযুক্ত স্বামী পলাতক

0
26

গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার রাউতকোনা গ্রামে স্ত্রী, তিন মেয়ে ও শ্যালকসহ একই পরিবারের পাঁচজনকে গলা কেটে হত্যার মর্মান্তিক ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো এলাকায়।

শুক্রবার দিবাগত রাতে প্রবাসী মনির হোসেনের বাড়িতে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহতরা হলেন ফুরকান মিয়ার স্ত্রী শারমিন, তিন মেয়ে মীম (১৫), মারিয়া (৮), ফারিয়া (২) এবং শ্যালক রসুল মিয়া।

পুলিশ জানায়, পেশায় প্রাইভেটকার চালক ফুরকান মিয়া প্রায় এক বছর আগে ওই বাড়ির নিচতলা ভাড়া নেন। শনিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে তিনি ছোট ভাইয়ের স্ত্রীকে ফোন করে জানান, পাঁচজনকে হত্যা করে পালিয়ে যাচ্ছেন। পরে প্রতিবেশীরা ঘরে গিয়ে ভয়াবহ দৃশ্য দেখতে পান—ঘরের মেঝেতে তিন শিশুকন্যার মরদেহ পাশাপাশি পড়ে ছিল, শারমিনের মরদেহ জানালার গ্রিলে হাত-মুখ বাঁধা অবস্থায় ঝুলছিল এবং রসুল মিয়ার মরদেহ বিছানায় ছিল।

ঘটনাস্থল থেকে দেশীয় মদের খালি বোতল, রান্না করা পায়েশ, কোমল পানীয়র বোতল ও কিছু প্রিন্ট করা কাগজ উদ্ধার করেছে পুলিশ। কাগজে ফুরকান তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে ১০ লাখ টাকা আত্মসাত ও পরকীয়ার অভিযোগ করেছিলেন। পুলিশ ধারণা করছে, পারিবারিক কলহ থেকেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে।

কালীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান জানান, উদ্ধার হওয়া কাগজপত্র ও অন্যান্য আলামত যাচাই করা হচ্ছে। অভিযুক্ত ফুরকান ঘটনার পর থেকেই পলাতক।

শনিবার (৯ মে) ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে শিশুদের মরদেহ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সালমা খাতুন। তিনি বলেন, “বাচ্চাগুলোকে দেখে আমার খুব কষ্ট লেগেছে। এমন হৃদয়বিদারক দৃশ্য আমি আগে কখনও দেখিনি।”

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে