চারুকলায় বৈশাখী শোভাযাত্রার বর্ণাঢ্য প্রস্তুতি, প্রতিপাদ্য ‘নববর্ষের ঐকতান’

0
19

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে চলছে পহেলা বৈশাখ উদযাপনের বর্ণাঢ্য প্রস্তুতি। ১৪৩৩ বঙ্গাব্দকে বরণ করতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন। এবারের আয়োজনের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে— “নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনর্জাগরণ”। এর মাধ্যমে সমাজে ঐক্য, সম্প্রীতি ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

চারুকলা প্রাঙ্গণে শোভাযাত্রার জন্য বিশাল মোটিফ তৈরিতে ব্যস্ত শিক্ষার্থীরা। বাঁশ ও কাঠ দিয়ে তৈরি হচ্ছে প্রতীকী অবয়ব। জয়নুল গ্যালারির সামনে চলছে আলপনা আঁকা, মুখোশ বানানো ও গ্রামীণ দৃশ্য ফুটিয়ে তোলার কাজ। এসব শিল্পকর্ম বিক্রি করে শোভাযাত্রার তহবিল সংগ্রহ করা হচ্ছে।

এবারের শোভাযাত্রায় লোকজ ঐতিহ্যের মিশেলে পাঁচটি প্রধান মোটিফ থাকছে— লাল ঝুঁটির মোরগ, দোতারা, সোনারগাঁয়ের কাঠের হাতি, শান্তির প্রতীক পায়রা এবং কিশোরগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী টেপা ঘোড়া। প্রতিটি মোটিফের রয়েছে বিশেষ তাৎপর্য: মোরগ নতুন দিনের প্রতীক, দোতারা লোকসংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধা, আর ঘোড়া ও হাতি জীবনের গতিশীলতা ও লোকশিল্পের প্রতিনিধিত্ব করছে।

চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আজহারুল ইসলাম শেখ জানান, শেকড়ের সঙ্গে যুক্ত উপাদানগুলো পুনরুদ্ধার ও সংরক্ষণে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। শিক্ষার্থীরাও বলছেন, পহেলা বৈশাখ শুধু উৎসব নয়, এটি আমাদের সংস্কৃতি ও পরিচয়ের অংশ।

ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতি পাওয়ার পর বৈশাখী উৎসব আন্তর্জাতিক পরিসরেও মর্যাদা পেয়েছে। পান্তা-ইলিশ, পিঠা-পুলি আর বাউল-ভাটিয়ালির সুরে দেশজুড়ে চলছে আনন্দের প্রস্তুতি। সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে বর্ষবরণ হয়ে উঠছে ঐক্য, সম্প্রীতি ও গণতন্ত্রের পুনর্জাগরণের এক মহোৎসব।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে