জাতি গঠনে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী

0
7

জাতি গঠন এবং দেশকে এগিয়ে নিতে স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতি বজায় রাখতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ভবনের অধ্যাপক মুজাফফর আহমদ চৌধুরী অডিটোরিয়ামে শিক্ষার্থীদের মুখোমুখি হয়ে এই সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি তৃতীয় একটি ভাষা শেখারও আহ্বান জানান, যাতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ে।

অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ১৫৬ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন। তাদের মধ্যে ১৭ জন শিক্ষার্থী সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনা ও উদ্যোগ সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন করেন। প্রধানমন্ত্রীও হাসিমুখে তাদের প্রশ্নের উত্তর দেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের অঙ্কন ও চিত্রায়ণ বিভাগের স্নাতকোত্তর শ্রেণির ছাত্রী কাবেরী আজাদ প্রধানমন্ত্রীর প্রতি প্রশ্ন রেখে বলেন, আর্টিস্টদের শিল্প বাজার প্রসারে সরকারের কোনো পদক্ষেপ বা কোনো ধরনের পরিকল্পনা আছে কি না?

উত্তরে কাবেরী আজাদকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই প্রশ্নের উত্তরটা আমি একটু ভিন্নভাবে দেব। এই যে আপনারা অনেক কিছু চাইছেন, মনে করছেন হওয়া উচিত কিন্তু সব কিছুই ধীরে ধীরে তৈরি করতে হয়। এজন্য দেশে একটি স্থিতিশীল পরিবেশ লাগবে। আমরা যদি দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল না রাখতে পারি, তাহলে আমরা কোনো কিছুই তৈরি করতে পারবো না। তৈরি হবে, ভেঙে যাবে। সেজন্য একটি স্থিতিশীল পরিবেশ দরকার।

তিনি বলেন, ‘এক্ষেত্রে আপনাদের প্রত্যেক স্টুডেন্টের একটি বড় ভূমিকা আছে। সেটা সোশ্যাল মিডিয়া হোক বা অন্য যেকোনো মাধ্যম। কিন্তু ওপিনিয়ন আপনাদেরই তৈরি করতে হবে। আমরা রাজনীতি করব এবং করেছি। রাজপথে অনেক কিছু এখন স্থিতিশীলতা আসতে হবে। রাজনীতিকে সংসদে নিয়ে যেতে হবে। শুধু রাজপথে এসে হইচই করলেই কোনো কিছু গড়ে তোলা যায় না।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কোনো কিছু গড়ে তোলার জন্য কিন্তু স্থিতিশীলতা লাগে, বসে আলোচনা করতে হয়, চিন্তা করে কাজে হাত দিতে হয়। কাজেই আপনাদের কাছ থেকেই এই সহযোগিতা আসতে হবে। কারণ, আপনারাই আগামির ভবিষৎ। আপনাদের শক্ত হতে হবে, প্রতিবাদ করতে হবে। কাবেরী আপনার প্রশ্নের উত্তরটা আমি ডাইরেক্টলি দিলাম না। বাট, আমি যেভাবে চিন্তা করি- সেভাবে বললাম।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনাদের (শিক্ষার্থী) সাথে আমার বয়স বলেন সবকিছু মিলে অনেক গ্যাপ। আমি জানতে চাই, আপনারা কেমন বাংলাদেশ দেখতে চান। বাংলাদেশের জন্য কী কী আমরা করতে পারি? আমি জানতে চাই বাংলাদেশের জন্য আপনারা কী কী করতে পারেন? আমরা এগুলো নিয়ে আলাপ করব আজকে। চলেন আলাপ শুরু করি।’

অপর এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে সকালে আমি বলেছিলাম- আমার বক্তব্যে দুঃখজনক হলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বলতে আমরা যা বুঝি, ইন্টারন্যাশনালি র‌্যাংকিংয়ের মধ্যে পড়ছে না। এর মূল কারণ হচ্ছে যে, এখানে যেভাবে শিক্ষক নিয়োগ হওয়া উচিত ছিল, অতীতে সেভাবে হয়নি। দূর থেকে এটা আমরা শুনেছি, পত্র-পত্রিকায় পড়েছি যে, এখানে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে পলিটিক্যাল বায়াসনেসটা বেশি প্রায়োরেটি পেয়েছে।’

এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) আয়োজিত ‘বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষা রূপান্তর : টেকসই উৎকর্ষতার রোডম্যাপ’ শীর্ষক কর্মশালার উদ্বোধন করেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে