ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) রাতে সমাপ্ত হয়েছে। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ঘোষণা পাঠের মাধ্যমে অধিবেশনের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
গত ১২ মার্চ শুরু হওয়া অধিবেশন ২৫ কার্যদিবস ধরে চলে। এ সময়ে মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশের বিপরীতে ৯১টি বিল পাস হয়। আজকের দুটি বিলসহ মোট ৯৪টি বিল পাস হয়েছে। এছাড়া ৫টি স্থায়ী কমিটি এবং ২টি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী বিভিন্ন নোটিশ ও আলোচনায় সংসদ সদস্যরা সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। প্রধানমন্ত্রীকে উত্তর দেওয়ার জন্য ৯৩টি প্রশ্নের নোটিশ দেওয়া হয়, যার মধ্যে তিনি ৩৫টির উত্তর দেন। মন্ত্রীদের জন্য ২ হাজার ৫০৯টি প্রশ্নের নোটিশ পাওয়া যায়, এর মধ্যে ১ হাজার ৭৭৮টির উত্তর দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ৪০ ঘণ্টা ১৪ মিনিট আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
সমাপনী বক্তব্যে স্পিকার বলেন, দীর্ঘ ১৮ বছর পর জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। তিনি সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশের প্রশংসা করে বলেন, অতীতের কোনো সংসদে এমন দৃশ্য দেখা যায়নি।
স্পিকার সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে রাষ্ট্র পরিচালনায় নেতৃত্ব প্রদানের জন্য অভিনন্দন জানান এবং বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানকে কার্যকর নেতৃত্বের জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি আরও বলেন, ২২০ জন নতুন সংসদ সদস্যের গঠনমূলক আলোচনা ও সহনশীল আচরণ তাকে মুগ্ধ করেছে।
‘মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাইয়ের চেতনায় করব কাজ গড়ব দেশ’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে স্পিকার বলেন, সংসদীয় গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই এখন প্রধান লক্ষ্য। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ একটি মানবিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গঠনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।




































