জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাবে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে নিত্যপণ্যের দাম হঠাৎ বেড়ে গেছে। ভোক্তারা এখন বাজার করতে গিয়ে রীতিমতো বিপাকে পড়ছেন। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে এক ডজন ডিমের দাম ১৫ টাকা বেড়েছে, মাঝারি মানের চালের কেজি বেড়েছে ৫ টাকা পর্যন্ত। শুধু চাল ও ডিম নয়, আটা, ময়দা, তেল, ডাল থেকে শুরু করে সবজির দামেও উল্লম্ফন দেখা যাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ এপ্রিল) রাজধানীসহ সারাদেশের কয়েকটি বাজারের তথ্য মতে, পাইজাম ও লতা চাল তিন দিনের ব্যবধানে ৫৫–৬৮ টাকা থেকে বেড়ে ৬০–৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আটা ও ময়দার দামও প্রতি কেজিতে ২–৫ টাকা বেড়েছে। খোলা সয়াবিন তেলের দাম লিটারপ্রতি ৫ টাকা বেড়ে ১৮৫–১৯৫ টাকায় পৌঁছেছে। ছোলা, ডিম ও সবজির দামও বেড়েছে। ফার্মের বাদামি ডিম এক সপ্তাহে ১২০ টাকা থেকে বেড়ে ১৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
সরকারি সংস্থা টিসিবির দৈনিক প্রতিবেদনেও নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির তথ্য উঠে এসেছে। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানিয়েছেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতি ও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, বাজারে কোনো ধরনের কৃত্রিম সংকট বা কারসাজি বরদাশত করা হবে না।
সবজির দামেও বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। বেশির ভাগ সবজি এখন ৭০ টাকার ওপরে বিক্রি হচ্ছে। বেগুন ৮০–১২০ টাকা, ঝিঙা ৭০–৮০ টাকা, করলা ৭০–৮০ টাকা, বরবটি ৮০ টাকা এবং কচুমুখী ৯০–১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বিক্রেতারা জানিয়েছেন, দাম বাড়ায় বেচাকেনায় ভাটা পড়েছে। ক্রেতাদের আনাগোনা কমে গেছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি উৎপাদন, পরিবহন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় ‘চেইন প্রভাব’ সৃষ্টি করে। এর ফলে মূল্যস্ফীতি বাড়ছে এবং নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও চাপে পড়ছে।




































